fbpx

বিজ্ঞাপণের এখন তখন

সবাই ফেসবুক এ্যাড এর প্রতি কেন এত ঝুকেছে, কারণ কি?

কারণ তো নিশ্চয়ই আছে তাই তো সবাই ফেসবুক এ্যাড বা বুস্টিং এর পেছেনে ছুটছে।  চলুন কারণ গুলো একটু যাচাই করে নেয়ার চেষ্টা করি।

তার আগে চলুন একটু ফেসবুক এর বাইরে থেকে ঘুরে আসি। যখন ফেসবুক ছিলনা তখন কি ব্যবসায়ীরা কি তাদের পন্যের এ্যাড দেয় নি! নিশ্চয়ই দিয়েছে, চলুন এবার দেখে আসি তারা কিভাবে এ্যাড দিয়েছে, এ্যাড বাবদ কত টাকা তাদের খরচ করতে হয়েছে বা কতটা সময়ই ব্যায় করতে হয়েছে।

ব্যানার, পোস্টার, লিফলেট, মাইকিং, দেয়াল লিখন, পত্রিকায় বিজ্ঞাপণ, এবং টেলিভিশন এ বিজ্ঞাপণ।

যখন স্যোসাল মিডিয়া ছিলনা বা ততটা জনপ্রিয় ছিলনা সে সময় যে সব উপকরণ গুলো বিজ্ঞাপণের জন্য ব্যবহৃত হত তার মধ্যে উল্লেযোগ্য হচ্ছে ব্যানার, পোস্টার, দেয়াল লিখন, পত্রিকায় বিজ্ঞাপণ এবং টেলিভিশন এ বিজ্ঞাপণ।

ব্যানার: ব্যানার কারা ব্যবহার করত? সাধারণত ছোট ও মাঝারী ধরনের ব্যবসায়ীরাই ব্যানার ব্যবহার করত। বছর দশেক আগেও ব্যানার হাতে লিখতে হতো, এখন অবশ্য প্রিন্টেড ব্যানার পাওয়া যায় তাও আবার যদি সংখ্যায় বেশি হয়। সে সময় এবং এ সময় ব্যানার প্রতি খরচ প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা। অর্থাৎ ৫০ টি ব্যানার শুধু তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১৫,০০০ টাকা থেকে ২৫০০ হাজার টাকা। এর পর আবার এই ব্যানার গুলো যথাযথ জায়গায় লাগানোর জন্য লোকের প্রয়োজন হয়, ৫০ টি ব্যানার লাগাতে যদি সারাদিন ও সময় লাগে তবে একজন দিন মজুর এর মজুরি নূন্যতম ৫০০ টকা খরচ হয়।

পোস্টার: পোস্টার এর ব্যবহার বহু আগে থেকেই চলে আসছে যা এখনো চলছে, হয়তে অদূর ভবিষ্যতেও চলবে। চলুন পোস্টার এর খরচ সম্পর্কে একটু জানবার চেস্টা করি। সব থেকে ছোট সাইজ এর 1000 পোস্টার প্রিন্ট করতে খরচ হয় প্রায় ৭০০ টাকা, বড় পোস্টার এর ক্ষেত্রে খরচ আরো বেশি। এখন আবার এই পোস্টার গুলো লাগানোর জন্য কাউকে টাকা দিয়ে কাজ করাতে হবে, এখানে ও খরচ। আবার যেখানে সেখানে পোস্টার লাগাতে গিয়ে বিপত্তিতেও পরতে হয়।

লিফলেট: লিফলেট একদা প্রচারের একটি অন্যতম জন্যপ্রিয় মাধ্যম ছিল এখনো এর কিছু ব্যবহার দেখাযায়। হাজার খানেক লিফলেট প্রিন্ট করতে খরচ হয় প্রায় ৫০০ থেকে ২০০০ টাকা (প্রকারভেদে) এর পর তা আবার হাতে হাতে বিলি করতে হয়। তাও আবার দেশের সব জায়গায় পৌছানো প্রায় অসম্ভব।

প্রত্রিকা ও টেলিভিশন: পত্রিকা ও টেলিভিশন এ বিজ্ঞাপনের রীতি এখনো জনপ্রিয় কিন্তু বেশ ব্যয়বহুল যা সাধরণের পক্ষে বহন করা অসম্ভব।

ফেসবুক বিজ্ঞাপণ

২০২০ সালের জন্যপ্রিয় একটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের নাম ফেসবুক কে না জানে, এর মাধ্যমে যেমন আপনি আপনার পরিচিত জনদের সংস্পর্শে থাকতে পারেন তেমনি আপনার পণ্য বা সার্ভিস এর বিজ্ঞাপণ অল্প খরচে পৃথিবীর প্রায় সকল প্রান্তেই পৌছে দিতে পারেন।

সময়: খুবই দ্রুত সময়ে আপনি আপনার পণ্য বা সার্ভিস এর বিজ্ঞাপণ প্রদান করতে পারেন, এর জন্য আপনার প্রয়োজন একটি আন্তর্জাতিক মানের পেমেন্ট কার্ড। এটা বাধ্যতামূলক নয়, অনেক প্রতিষ্ঠান আপনার হয়ে আপনার জন্য বিজ্ঞাপণ প্রদানে সহায়তা করে থাকে এজন্য আপনাকে ঘরের বাইরেও যেতে হবে না, একটি কল করুন বা একটি মেইল করুন আপনার বিজ্ঞাপণ যথা সময়ে যথা স্থানে প্রদর্শিত হবে। এতে করে আপনার মূলবাস সময় বেঁচে যাবে যাতে আপনি আপনার ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে পারেন।

খরচ: এক্ষেত্রে খরচ যথা সম্ভব কম। পূর্বের বিজ্ঞাণ ব্যবস্থা গুলোর তুলনায় ফেসবুকে বিজ্ঞাপণ দেয়া খুবই সাশ্রয়ী। বিশেষ করে যারা সবে মাত্র ব্যবসা শুর করেছেন বা মাঝামাঝি পর্যায়ে আছেন, তাদের জন্য এটি খুবই লোভনী মাধ্যম। অল্প খরচে আপনার পণ্য নিয়ে আপনি সবার কচে পৌছে যেতে পারেন মিনিট এর মধ্যেই।

ব্যাপ্তি: এর ব্যপ্তি এ ব্যপক যে আপনি ঘরে বসে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত আপনার পণ্যের বিজ্ঞপাণ প্রদান করতে পারেন। এই মাধ্যমে আরো মজার ব্যাপার হলো আপনি যাদেরকে আপনার ক্রেতা মনে করেন শুধু তাদেরকেও আপনি আপনার বিজ্ঞাপণ টি দেখাতে পারেন।

স্বচ্ছতা: যেহেতু আপনি স্যোসাল মিডিয়ার একজন সক্রিয় সদস্য তাই আপনার বন্ধু বান্ধব দেখে বুঝা যায় আপনি কতটা স্বচ্ছতা বজায় রাখতে পারেন আপনার সার্ভিস এর ক্ষেত্রে। অবশ্য এখানে স্বচ্ছতা বজায় না রাখলে ব্যবসা করা খুবই কস্টকর, কারণ যেকেউ আপনার সার্ভিস সম্পর্কে কমেন্ট এবং রিভিও করতে পারে, যা অন্যদের প্রভাবিত করে থাকে।

পূর্বের বিজ্ঞাপণ ব্যবস্থার সাথে তুলনা করলে আপনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন কোন মাধ্যমে বিজ্ঞাপণ দেয়া অধিকতর কার্যকর ও কেন। পণ্য বা সার্ভিস আপনার প্রচার ও প্রসার এর ভার ও আপনার, সুতরাং নিজের সাথে বুঝাপরা করার পর অভিজ্ঞদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

Share This