fbpx

বুস্টিং এর পাশাপাশি কিছু টুলস ব্যবহার করুন

ফেসবুক পেইজ বা গ্রুপের মাধ্যমে ব্যবসা করেন অনেকেই, মাঝে মাঝে নিজেকেই প্রশ্ন করেন বা কিছুটা বিরক্তও হন এই ভেবে, “বুস্ট করছি, অথচ, সেল হচ্ছে না!”

সাধারণত আমরা এ্যাড বা বুস্ট করে থাকি আমাদের পণ্যের প্রচার ও প্রসার এর জন্য। এর পর যখন আমাদের পণ্য বা সেবা জনপ্রিয় হয়ে যায় তখন বেশ বেচা-বিক্রি হয়। আর এই বেচা বিক্রির পরিমাণ ঠিক রাখতে বা আরো বাড়াতে বা প্রতিযোগীতায় টিকে থাকতে আমরা নিয়মিত বিজ্ঞাপণ দেই। এতে করে পণ্যের বিপণন বাড়েবৈ কমে না, কিন্তু সেল বাড়ানোর জন্য শুধু বিজ্ঞাপণই কি যথেষ্ট?

সেল বাড়ানোর জন্য সফল ব্যবসায়ী বা বড় বড় কম্পানি গুলো কি করে থাকে তার দিকে নজর দেয়া যাক। সেল বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপণ বেশ বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করে। বিজ্ঞাপন এর পাশাপাশি কাজ করে সেলস ম্যান।

বড় বড় প্রতিষ্ঠান গুলো ও কিন্তু বিজ্ঞাপণ প্রতিষ্ঠান গুলোর উপর তেমন কোন চাপ প্রয়োগ করতে পারেনা যদি সেল না বাড়ে। বরং সেল না বাড়লে বেচারা সেলস ম্যান এর উপর চড়াও হয় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তাতে কিছু হলেও সেল বাড়ে, যদিও কম্পানি জানে এর থেকে তার পক্ষে খুব বেশি কিছু করা সম্ভব নয়। একজন সেলস ম্যান কে আর কতই বেতন দেয়া হয়, অন্য দিকে কোটি কোটি টাকা ব্যায় করা হয় বিজ্ঞাপণ দিয়ে, অথচ সেখানে আমাদের বলার কিছু নেই। বরং বিজ্ঞাপণ এর মান খারাপ হলে আরো চমৎকার বিজ্ঞাপণ তৈরির জন্য অর্থ ব্যায় করা হয়।

আমি তো ভাই ছোট ব্যবসায়ী আমার তো আর সেলস্ ম্যান নাই যে তাকে একটু চাপা চাপি করতে পারি। আমাদের ব্যবসায় আমরা নিজেরাই সেলস ম্যান এবং আমাদের বন্ধু-বান্ধবদেরকেও এখানে সামিল করতে পারি। যেহেতু আমাদের সেলস ম্যান নাই এবং আমাদের ব্যবসার ধরন অনুযায়ী সেলস ম্যান হলেও হয়তো খুব একটা লাভ হতো না, তবে কি করা…

তবে সব দরজায় কড়া নাড়ার চেষ্টা করতে হবে, যেহেতু অনলাইন ই আমাদের ভরসা সেটাকেই পুজি করে আগাতে হবে। বিজ্ঞাপণ এর সাথে সাথে আমারা আরো কিছু টুলসও ব্যবহার করতে পারি আমাদের পণ্যের ব্যাপক প্রচার বা সেল বাড়ানোর জন্য, তিনটি টুলস নিয়ে খুব সংক্ষেপে বলার চেস্টা করছি, যদিও অনলাইনের মাধ্যমে যারা ব্যবসা করেন তারা কম বেশি সবাই এ টুলস গুলো সম্পর্কে জানেন।

  • ওয়েবসাইট
  • গুগল বিজনেস পেইজ
  • এফিলিয়েট মার্কেটিং

. ওয়েবসাইট: ব্যবসার জন্য যেমন আপনার একটি প্রতিষ্ঠানিক ঠিকানা থাকা দরকার তেমনি বর্তমান সময়ে আপনার নিজের ব্যবসার জন্য অবশ্যই একটি ওয়েবসাইট থাকা দরকার। আর অধিকাংশ ব্যবসাই যেহেতু অনলাইন নির্ভর তাই আপনার জন্য একটি ইকর্মাস ওয়েবসাইট অতি জরুরী অটোমেটেড পেমেন্ট, অর্ডার ডিটেইলস, কাস্টমার এর তথ্য ও স্টক ম্যানেজম্যান্ট এর জন্য। খুব অল্প টাকাতেই আপনি একটি ইকমার্স সাইট রেডি করতে পারেন।

২. গুগল বিজনেস পেইজ: আমরা যেমন ফেসবুক এ পেইজ খোলে ব্যবসা করছি ঠিক এরকমই একটা সেবা প্রদান করছে গুগল বিজনেস। এখানে আপনার ব্যবসার বিস্তারিত তথ্য ও পণ্যের মূল্য দিয়ে রাখতে পারেন যাতে করে গুগল সার্স ও গুগল ম্যাপ এর মাধ্যমে আপনাকে আপনার লোকাল এরিয়ায় খুব সহজেই খুজে পাওয়া যায়।

৩. এ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং: যদিও এটি টুলস নয় একটি মার্কেটিং স্ট্র্যাটেজি, যার মাধ্যমে আপনি আপনার অসংখ্য সেলস ম্যান তৈরি করতে পারেন। কিভাবে? আপনার ফেসবুক গ্রুপে জানিয়ে দিন যারা আপনার পণ্য সেল করে দিবে তাদের আপনি লভ্যাংশ্যের একটা অংশ দিবেন। আপনার পণ্য যদি মান সম্মত হয় তবে অনেকেই হয়তো আপনার পণ্যের মার্কেটিং করে কিছু আয় করবার চেস্টা করবে। তাদের লাভ, তাদের কোন পণ্য উৎপাদন না করেই আপনার পণ্য বিক্রির মাধ্যমে আয়। আপনার লাভ বেতন ছাড়াই অসংখ্য কর্মী কাজ করবে আপনার জন্য।

শুধুমাত্র বিজ্ঞাপণ এর উপর নির্ভর না করে পাশাপাশি কিছু টুলস ব্যবহার করে ভাল ফল পেতে পারেন। আরো একটা বিষয় মনে রাখবেন, ফেসবুক পেইজ যদিও আপানার প্রতিষ্ঠানের নামে, তার পরও এটি কিন্তু আপনার নয়, এটি ফেসবুক এর, আর তাই নিজের একটি ওয়েবসাইট খুবই প্রয়োজন। ফেসবুক তার নিয়ম না মানলে যেকোন সময় আমার আপনার পেইজ ডিজএবল করে দিতে পারে। তাই পেইজ ও বুস্টিং সংক্রান্ত পলিসি গুলো ভালভাবে বুঝার চেস্টা করুন এবং নিয়ম মেনে বুস্টিং করুন আশাকরি ভাল ফলাফল পাবেন।

Share This