fbpx

ফেসবুক বিজনেসে ভালো করার কিছু ফন্দি-ফিকির

চমৎকার একটি কভার ফটো

অনেকে বলে থকেন ছবি কথা বলে, আর একটা ভাল ছবি হাজার বছর থাকে; শুধু ছবি নয় ছবি যে তুলেছেন বা একেছেন তিনিও বেঁচে থাকেন হাজার বছর। আপনার তো মোনালিসা’র চিত্র টি দেখেছেন, ছবি এবং চিত্রকর আজো আমাদের মাঝে স্মরণীয়। আপনারা যারা উইন্ডোজ এক্সপি ব্যবহার করতেন, তারা প্রায় সকলেই দেখেছেন স্ক্রীন এর ‍উপর ভেসে উঠত সবুজ ঘাসের উপর চমৎকার আকাশ, তা হয়তো আপনারা কেউ ভুলেন নি।

যেহেতু আপনি প্রফেশনাল (পেশাদার) কাজ করছেন বা ব্যবসা করছেন সেহেতু এখানে ছাড় দেবার তো প্রশ্নই আসে না। প্রয়োজন হলে একজন ভাল গ্রাফিক ডিজাইনার এর কাছ থেকে চমৎকার একটি কাভার ফটো এডিট করে নিন। আপনার পরবর্তী পোস্ট বা ইভেন্ট এর জন্যও আপনি ভাল একজন গ্রাফিক ডিজাইনার এর কাছ থেকে আপনার ছবি গুলো এডিট করে নিতে পারেন। কিছু উদাহরণ দেখুন

“ফার্স্ট ইমপ্রেসন ইজ দ্যা লাস্ট ইমপ্রেসন” এই কথাটি ফেসবুক এর ক্ষেত্রে বেশ কার্যকর, আপনার নিজের কথাই ধরুন, কোন পোস্ট এর ছবি ভাল হয়নি অথচ আপনি এর বিস্তারিত পড়েছেন এমন কতগুলো পোস্ট আপনার মনে আছে! আর ফেসবুকে তো হাজারও এ্যাড ঘুরে বেড়াচ্ছে যার যেটা খুশি দেখছে বা রিমুভ করছে। শেখ সাদি’র ভাল পোশাক না থাকার গল্প টা হয়তো সবারই জানা।

Post variation

পোস্ট এর ভিন্নতা

একবার স্মরণ করে দেখুন তো গত সাত দিনে আপনি কতগুলো পোস্ট মনযোগ দিয়ে পড়েছেন, আর কতগুলো ভিডিও অনিচ্ছাকৃত দেখেছেন? টেক্স পোস্ট এর দিন সব সময় ই থাকবে তবে, বর্তমান সময়টা সম্ভত ভিডিও আর লাইভ ভিডিও’র যুগ। তাই শুধু টেক্সট আর ছবি ব্যবহার না করে, আপনার মোবাইল ব্যবহার করে ছোট্ট একটা ভিডিও তৈরি করে ফেলতে পারেন আপনার পন্য বা সার্ভিস এর জন্য। ভিডিও বানানোর জন্য আপনি নানা ধরনের মোবাইল এপ পেয়ে যাবেন, নানা ধরনের টেমপলেট সহ। এছাড়া আপনি একজন পেশাদার ভিডিও গ্রাফারও হায়ার করতে পারেন। মানেন আর নাই মানেন টিকটক বা লাইকি তে আমাদের কিশোরদের তৈরি ভিডিও বেশ জনপ্রিয়তা পাচ্ছে, অর্থাৎ এরা আজকাল বেশ ক্রিয়েটিভ কাজ করছে, এদের সহযোগীতাও নিতে পারেন।

নিয়মিত পেজ এর ইনসাইট চেক করুন

নিয়মিত পেইজ এর ইনসাইট চেক করুন, তাহলেই বুঝতে পারবেন কি ধরনের পোস্ট গুলো ভাল পারফর্ম করছে। বিভিন্ন রকম পোস্ট দেন, বিভিন্ন রকম পোস্ট দেয়ার পর ইনসাইটে যান, দেখুন কোন পোস্টের কি অবস্থা, বুঝুন এরপর পরের পোস্ট কি হবে সিদ্ধান্ত নিন।
অ্যাড টারগেটিং এর ক্ষেত্রেও এটা কাজ করবে, আপনি ইনসাইট থেকে দেখুন কত বয়সের মানুষ আপনার পেজে এঙ্গেজ হচ্ছে, কোন কোন এলাকার মানুষ এঙ্গেজ হচ্ছে এগুলা দেখে আপনার অ্যাড টারগেটিং করুন। ধরুন আপনি সারা বাংলাদেশ অডিয়েন্স টার্গেট করে এ্যাড দিলেন কিন্তু দেখা গেলো আপনার অধিকাশ অডিয়েন্স ঢাকা এবং চট্রগ্রাম এর তাহলে সারা বাংলাদেশ অডিয়েন্স সেট করে কি কোন লাভ হলো?

আপনার প্রতিযোগী বা একই ধরনের সেবা প্রদানকারী পেইজ, পোস্ট ও ইভেন্ট নিয়মিত যাচাই করুন।

আপনার প্রতিযোগীরা কি অফার বা কি ধরনের সেবা প্রদান করছে তা আপনাকে সব সময় মাথায় রাখতে হবে। ধরুন কেউ এক হালি কলা ১০ টাকায় দিচ্ছে, কিন্তু আপনি ১৫ টাকার কমে দিতে পারছেন না, তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠবে সে কিভাবে দিচ্ছে! তখন আপনাকে আরো বেশি বিশ্লেষণত্বক হতে হবে। তখন আপনাকে একই ধরনের আরো সার্ভিস গুলো পর্যালোচনা করে দেখতে হবে সে কি সঠিক মূল্যে সঠিক সার্ভিস টি দিচ্ছে। যদি আপনি সঠিক থাকেন তবে তো বেশ ভাল, আর তা না হলে হয়তো আপনাকে নতুন করে ভাবতে হবে।

আপনাকে আপনার প্রোডাক্ট অথবা সার্ভিস সম্পর্কিত অন্য পেজের কার্যক্রম ফলো করতে হবে, তারা কি ধরনের পোস্ট দিলো, সেখানে কি ধরনের পোস্টে এঙ্গেজমেন্ট বেশি সেগুলি ফলো করতে হবে, তবে সতর্ক থাকতে হবে যেন কোন ভাবেই তার পোস্ট বা কনটেন্ট নকল না করা হয়।

অন্য রা কি সেবা দিচ্ছে যা আপনি দিচ্ছে না?

তারা কি করছে যা আপনিও করছেন?

তারা কি করছে না যা আপনি করছেন? এই প্রশ্ন এগুলার উত্তর জানাও আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

 যেহেতু রীতিমত প্রতিযোগীতায় শুধু টিকে থাকলেই হবে না, যথেষ্ঠ আয় ও করতে হবে। তাই অন্যেরা কি সেবা দিচ্ছে, আপনি কি সেবা দিচ্ছেন তা নিয়ে সব সময় কাজ করতে হবে এবং নিজের ভুল গুলি দ্রুত সময়ের মধ্যে শুধরে নিতে হবে। মনে রাখবেন আপনার প্রতিযোগীরাও সবসময় আপনার সার্ভিস সমূহ নিয়ে বিশ্লেষণ করছে এবং তাদের ভুল গুলি শুধরে নিচ্ছে। প্রয়োজন হলে একজন মার্কেট এ্যানালইজার এর সহযোগীতা নিতে পারেন।

Customer Satisfaction

সেবার মান ও গ্রাহক সন্তুষ্টি

সেবার মান সবসময় গুণগত রাখতে হবে। যেহেতু আাপনি ডিজিটাল প্লাটফর্ম ও স্যোসাল মিডিয়া ব্যবহার করছেন সেহেতু সবসময় মনে রাখতে হবে এখানে কোন কিছুই অডিয়েন্স এর চোখ এড়ায় না। আপনার সেবার মান যদি ভাল না হয় তবে অডিয়েন্স আপনার সেবার মান সম্পর্কে রিভিও করতে পারে, আর তা যদি নেতিবাচক হয় তবে তা দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে, যা পোষীয়ে উঠতে হয়তো অনেক সময়ের প্রয়োজন। তাই সবময় খেয়াল রাখতে হবে গ্রাহক যাতে কোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ না হয় বা রাগান্বিত না হয়। অনেক সময় হয়তো বৈরি পরিবেশ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, তা সুকৌশলে তা সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে।

টার্মস এন্ড কন্ডিশনস, প্রইভেসি ও পলিসি

অধিকাংশ অনলাইন বা ফেসবুক বেইজড বিজনেস গুলোরই কোন প্রাইভেসি, পলিসি, টার্মস এন্ড কন্ডিশন এর মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয় বা অনেকেই এর প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করে না। অথচ এই অল্প কয়েক টি ডকুমেন্ট আপনার বিপদে ব্যাপক ভাবে সহয়তা করতে পারে। এর জন্য আপনার ব্যবসা সম্পর্কিত কিছু আইনী বিষয়ে আপনার ধারনা থাকা প্রয়োজন। অথবা যে কোন এ্যডভোকেট এর সাথে পরামর্শ করে খুব সহজেই আপনার প্রতিষ্ঠান বা ব্যসার জন্য এই ডকুমেন্ট গুলো তৈরি করতে পারেন। যাতে খুব স্পষ্ট করে আপনার সেবা ও এর আদি অন্ত লিখিত থাকবে। যা হবে আপনার ব্যবসার সংবিধান যা আপনাকে বিভিন্ন আইনী জটিলতা থেকে রক্ষা করবে।

পেইজ বুস্টিং

অবশেষে যে অপ্রিয় সত্য কথাটি না বললেই নয়, ভাল ব্যবসা করতে হলে পেইজ, পোস্ট, ইভেন্ট এগুলো বু্স্ট করতেই হয়। হয়তো অনেকেই বুস্ট না করেই ভাল ব্যবসা করছেন। তাই বলে সবার ক্ষেত্রে তা সঠিক নাও হতে পারে। ফেসবুক বুস্টিং এখন বেশ জনপ্রিয় ও সহজ বিষয়, আপনি নিজেই নিজের পেইজ বা ব্যবাসা কে বুস্ট করতে পারেন। তবে একটু ভাল ফল পেতে হলে এ ব্যপারে অভিজ্ঞদের সহায়তা নিতে পারেন। অনেক এ্যাড মিডিয়া আপনার পেইজ ম্যানেজমেন্ট এর জন্য অপেক্ষা করে আছে।

Share This